চুনারুঘাট উপজেলা

চুনারুঘাটে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ, থানা ঘেরাওয়ের পর ছায়েদ আলী মুক্ত

চুনারুঘাটে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ, থানা ঘেরাওয়ের পর ছায়েদ আলী মুক্ত

চুনারুঘাট প্রতিনিধি: চুনারুঘাটে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে আটক ছায়েদ আলী নামে এক ব্যক্তিকে থানা থেকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ছায়েদ আলী উপজেলার আহাম্মদাবাদ ইউনিয়নের কালিশিরী গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে একটি মামলার হাজিরা দিতে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে চুনারুঘাট থানার এসআই মামুন তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। এ সময় তার পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে কালিশিরী গ্রামের শত শত মানুষ চুনারুঘাট থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং আহাম্মদাবাদ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কয়েকজন থানায় উপস্থিত হন।

পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনার পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছায়েদ আলীকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসআই মামুন এ ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিরোধের পেছনে পুরোনো বিরোধের অভিযোগ

স্থানীয়রা জানান, কালিশিরী গ্রামের ক্বারী সাবের পরিবারের সঙ্গে ছায়েদ আলীসহ একটি পক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। প্রথমে নারীসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হলেও পরবর্তীতে তা রাস্তা ও জমি নিয়ে বিরোধে রূপ নেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ১০-১২টি মামলা-মোকদ্দমা চলমান রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় একাধিক সামাজিক বিচার-সালিশ হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্বারী সাবের পরিবারের বাড়ির পাশে থাকা একটি জমি ও ওই জমির পাশ দিয়ে চলাচলের রাস্তা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ রয়েছে। রাস্তা ব্যবহারে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে কয়েক বছর ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার নিয়মিত মামলার হাজিরা দিতে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে ছায়েদ আলীকে ডিবি পরিচয়ে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। পরে তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠলে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে স্থানীয়রা থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন।

পরে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেওয়ায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এ ঘটনায় ইয়াবা উদ্ধারের দাবি, আটকের প্রক্রিয়া এবং এসআই মামুনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি।