চুনারুঘাটে তরুণদের একটি অংশের বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানো, একই মোটরসাইকেলে ৩–৪ জন চড়া, রাস্তায় রেসিং করা এবং চলন্ত মোটরসাইকেলে বিপজ্জনক কসরত ও রোমান্টিকতার নামে ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এখন উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক — কিছু অভিভাবক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরদের হাতেও মোটরসাইকেল তুলে দিচ্ছেন!
প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনার খবর আসছে। গত শুক্রবারও চুনারুঘাটের দুজন সম্ভাবনাময় তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের পরিবারের কান্না ও মা-বাবার বুকফাটা আহাজারি আমি কান পেতে শুনছি । পাড়া-প্রতিবেশী ও স্বজনদের আক্ষেপ দেখেছি।
কিন্তু এই মৃত্যুর দায় কি শুধু দুর্ঘটনার ?
যে সন্তানকে মা-বাবা অনেক স্বপ্ন নিয়ে বড় করছেন, তাঁর হাতে প্রয়োজন ছাড়া মোটরসাইকেল তুলে দিয়ে আমরা কি অজান্তেই মৃত্যুর চাবি তুলে দিচ্ছি না?
একজন শিক্ষার্থীর প্রধান দায়িত্ব পড়াশোনা করা। অথচ অনেক কিশোর-তরুণ দিন-রাত অকারণে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ গতি নিয়ে প্রতিযোগিতা করছে, কেউ বন্ধুদের নিয়ে রাস্তায় ঘুরছে, কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি-ভিডিও করার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করছে।
তাই প্রথম দায়িত্ব মা-বাবার। সন্তান অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে তার হাতে মোটরসাইকেল তুলে দেওয়ার আগে একবার নয়, বারবার ভাবতে হবে। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে যাচ্ছে, কীভাবে মটর সাইকেল চালাচ্ছে—এসব বিষয়ে নজর রাখতে হবে। শুধু সন্তানকে ভালোবাসলেই হবে না; প্রয়োজনে কঠোরও হতে হবে।
একই সঙ্গে চুনারুঘাটের শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতা, অভিভাবক এবং সমাজের মুরব্বিদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এটি কোনো এক পরিবারের সমস্যা নয়—এটি পুরো সমাজের সমস্যা।
স্কুল-কলেজের পড়ুয়া তরুণদের যদি আমরা খেলাধুলা, সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চা, বিতর্ক, স্বেচ্ছাসেবামূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত রাখতে না পারি, তাহলে তাদের একটি অংশ আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের দিকে যাবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে—
একটি মোটরসাইকেল কেনা সহজ;
কিন্তু একটি সন্তানের জীবন ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।
আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।
আর কোনো বাবাকে যেন সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে না হয়।
চুনারুঘাটের তরুণদের আমরা বেপরোয়া নয়—স্বপ্নবান, সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল দেখতে চাই।
সাংবাদিক সালেহ উদ্দিন
নির্বাহী সম্পাদক দৈনিক ইত্তেফাক
ও
পরিচালক- এনটিসি


