মোঃ তোফাজ্জল মিয়া: চুনারুঘাট উপজেলার রেমা গুদারাঘাটে খোয়াই নদীর নির্মাণাধীন সরকারি বাঁধের পাশ থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মাটিভর্তি চারটি ট্রাক্টর জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় বাঁধ নির্মাণকাজের সাব-কন্ট্রাক্টর শাহীন মিয়ার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। তবে শাহীন মিয়ার দাবি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশনায় মাটি স্থানান্তর করা হচ্ছিল।
জানা যায়, গতকাল বিকেল ২টার দিকে রেমা গুদারাঘাট এলাকায় খোয়াই নদীর নির্মাণাধীন সরকারি বাঁধের পাশ থেকে ট্রাক্টর দিয়ে মাটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় জলিল মেম্বারের ছেলে তারেক মিয়া ট্রাক্টরগুলো আটক করেন। পরে ঘটনাস্থলে এলাকার আরও কয়েকজন যুবক জড়ো হন।
এরপর তাঁরা বিষয়টি বিশগাঁও ভূমি অফিসে জানালে ভূমি অফিসের সহকারী তৌহিদুল পাঠান ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি ঘটনার সত্যতা যাচাই করে মাটিভর্তি চারটি ট্রাক্টর জব্দ করেন। পরে ট্রাক্টরগুলো উপজেলা প্রশাসনের জিম্মায় দেয়া হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি বাঁধের পাশের মাটি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সরাসরি জড়িত রয়েছেন বাঁধ নির্মাণকাজের সাব-কন্ট্রাক্টর শাহীন মিয়া।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, যে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে মানুষের জানমাল ও এলাকা সুরক্ষার জন্য, সেই বাঁধের পাশের মাটিই যদি বিক্রি করে দেওয়া হয়, তাহলে বাঁধটি কীভাবে টিকবে? বাঁধের পাশ থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়া হলে এর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এলাকাবাসী আরও দাবি করেন, সরকারি বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাব-কন্ট্রাক্টর শাহীন মিয়াকে নির্মাণকাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। তাঁদের মতে, বাঁধের মাটি রক্ষা এবং নির্মাণকাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
অন্যদিকে, সাব-কন্ট্রাক্টর শাহীন মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাঁধ নির্মাণের জায়গাটি উঁচু হওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশনায় ট্রাক্টর দিয়ে মাটি স্থানান্তর করা হচ্ছিল। আশপাশে মাটি রাখার মতো জায়গা না থাকায় ওই মাটি দিয়ে তাঁর মামার ভিটা ভরাট করছিলেন ।
সরকারি বাঁধের পাশ থেকে মাটি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বাঁধের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
জব্দ করা চারটি ট্রাক্টর এখনো উপজেলা প্রশাসনের জিম্মায় রয়েছে বিষয়’টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা ভূমি অফিসার তৌফিক আনোয়ার।


