চুনারুঘাট নিউজ24 ডেস্ক: ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’—প্রচলিত এই স্লোগানের সঙ্গে একজন মুসলিম দ্বিমত পোষণ করতে পারে । কারণ, প্রতিটি ধর্মের রয়েছে নিজস্ব বিশ্বাস, রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান ও সংস্কৃতি। ধর্মীয় বিশ্বাসের এই স্বাতন্ত্র্যকে সম্মান করা মানে এক ধর্মের আচার অন্য ধর্মের মানুষের ওপর চাপিয়ে না দেওয়া।
প্রতিটি ধর্মের নিজস্ব পরিচয় ও স্বকীয়তা রয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শাঁখা-সিঁদুর যেমন তাঁদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ, তেমনি মুসলিম নারীদের বোরকা-হিজাব তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের সঙ্গে সম্পর্কিত। এক পক্ষের বিশ্বাস বা সংস্কৃতিকে অন্য পক্ষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যেমন অনুচিত, তেমনি কারও ধর্মীয় পরিচয়কে অসম্মান করাও কাম্য নয়।
একইভাবে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাঁদের ধর্মীয় উৎসব নিজস্ব রীতিতে পালন করেন। মুসলিমরা ঈদুল আজহায় কোরবানি করেন, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন এবং খাবার বিতরণ করেন। এক ধর্মের ধর্মীয় আচারন অন্য ধর্মের মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। প্রত্যেকের নিজস্ব বিশ্বাস ও ধর্মীয় বিধিবিধান রয়েছে, যা তার নিজস্ব পরিসরে সম্মানিত হওয়া উচিত।
বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও রয়েছে মৌলিক পার্থক্য। হিন্দু ধর্মে বিভিন্ন দেবদেবীর উপাসনার প্রচলন রয়েছে, আর ইসলাম এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও ইবাদতের শিক্ষা দেয়। একজন মুসলিমের কাছে তাওহিদ যেমন ধর্মীয় বিশ্বাসের মৌলিক ভিত্তি, তেমনি অন্য ধর্মাবলম্বীদের নিজস্ব বিশ্বাস ও উপাসনাপদ্ধতিও তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়ের অংশ। বিশ্বাসের এই পার্থক্যকে জোর করে এক করে ফেলা সম্ভব নয়, বরং পরস্পরের ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সম্মান করাই সহাবস্থানের অন্যতম শর্ত।
তবে ধর্মীয় বিশ্বাসে ভিন্নতা থাকলেও নাগরিক অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ভিন্নতা থাকতে পারে না।
একজন মুসলমানের ধর্মীয় বিশ্বাস, আদর্শ ও মূল্যবোধকে ধারণ করা তার অধিকার। একইভাবে, অন্য ধর্মের মানুষেরও তাঁদের নিজস্ব বিশ্বাস অনুযায়ী ধর্ম পালন করার অধিকার রয়েছে। কারও ধর্মীয় বিশ্বাস গ্রহণ করা বা অন্যের ধর্মীয় আচার পালন করা সম্প্রীতির শর্ত হতে পারে না। বরং সম্প্রীতির প্রকৃত অর্থ হলো—নিজের বিশ্বাসে অবিচল থেকে অন্যের বিশ্বাস ও অধিকারকে সম্মান করা।
আমরা ধর্মে ভিন্ন হতে পারি, কিন্তু এই রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমাদের অধিকার সমান। রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের একক সম্পত্তি নয়; রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের। এখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়া উচিত।
আমরা এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে কেউ নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে অবহেলা, বৈষম্য কিংবা নিপীড়নের শিকার হবে না। যেখানে কেউ কারও ধর্মীয় উৎসব পালনে বাধা দেবে না, আবার কাউকে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থী কোনো আচার পালনে বাধ্যও করবে না।
আমাদের স্লোগান তাই—
ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।
ধর্মীয় বিশ্বাস যার যার, ধর্মীয় উৎসবও তার নিজস্ব। আর রাষ্ট্র, নাগরিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা—আমাদের সবার।
আসুন, ধর্মীয় ভিন্নতাকে বিভেদের হাতিয়ার না বানিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলি।


