মোঃ সাজিদুল ইসলাম: চুনারুঘাট পৌরসভার বাল্লারোডে তীব্র যানজট যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। কখনো কখনো মাত্র কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে আটকে থাকতে হয় ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা পর্যন্ত। দীর্ঘ এই ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। প্রশ্ন উঠেছে, বাল্লারোডের যানজট কি চুনারুঘাটবাসীকে আজীবন ভোগাবে, নাকি এর স্থায়ী সমাধান হবে?
যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং, দিনের বেলায় পণ্য ওঠানামা, অবাধে বালুবাহী ট্রাক্টর চলাচল এবং বিভিন্ন স্থানে অবৈধ স্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। এর পাশাপাশি ফুটপাত দখল হয়ে থাকায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। যানবাহনের চালকদের একটি অংশ ট্রাফিক শৃঙ্খলা না মানায় বাড়ছে দুর্ভোগ।
প্রখর রোদে দীর্ঘক্ষণ যানজটে আটকে থেকে চরম অস্বস্তিতে পড়ছেন যাত্রী ও পথচারীরা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ কর্মজীবী মানুষকে। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে, ব্যাহত হচ্ছে শহরের স্বাভাবিক চলাচল।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময়ে জরিমানা ও অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পরই আগের পরিস্থিতি ফিরে আসে। ফলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, বিচ্ছিন্ন অভিযানেই কি সীমাবদ্ধ থাকবে যানজট নিরসনের উদ্যোগ, নাকি নেওয়া হবে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ?
সমাধান কোথায়?
বাল্লারোডকে যানজটমুক্ত করতে যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ, দিনের বেলায় পণ্য ওঠানামার জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ, বালুবাহী ট্রাক্টর চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার, নিয়মিত তদারকি এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; অভিযানের সুফল ধরে রাখতে প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ। পাশাপাশি ব্যবসায়ী, পরিবহনশ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
চুনারুঘাটবাসী যানজটের এই নিত্যদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান। বাল্লারোডে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—সাময়িক পদক্ষেপ নয়, বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হোক।
বাল্লারোডের যানজট কি এভাবেই চলতে থাকবে, নাকি একদিন স্বস্তিতে চলাচলের সুযোগ পাবেন চুনারুঘাটবাসী? এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন ভুক্তভোগীরা।


