চুনারুঘাট উপজেলা

চুনারুঘাটে আদালতের নির্দেশে রাস্তা দখল করে নির্মিত তালুকদার বাড়ির অবৈধ গেট উচ্ছেদ

চুনারুঘাটে আদালতের নির্দেশে রাস্তা দখল করে নির্মিত তালুকদার বাড়ির অবৈধ গেট উচ্ছেদ

আব্দুল জাহির মিয়া চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতের কঠোর নির্দেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের দামোদরপুর গ্রামে রাস্তা দখল করে অবৈধভাবে নির্মিত ‘তালুকদার বাড়ি’র গেট উচ্ছেদ করা হয়েছে। আজ ৫ নভেম্বর সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এক বিশেষ উচ্ছেদ অভিযানে এই অবৈধ স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের দামোদরপুর গ্রামের জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র বা প্রধান রাস্তাটি গায়ের জোরে জবরদখল করে একটি প্রভাবশালী মহল পাকা বা স্থায়ী গেট নির্মাণ করেছিল। এর ফলে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের নিয়মিত যাতায়াত এবং জরুরি সেবা পাওয়ার পথ সংকুচিত ও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছিল।
জনভোগান্তির প্রতিকার চেয়ে এবং রাস্তার সরকারি বা উন্মুক্ত জায়গা উদ্ধারের উদ্দেশ্যে সংক্ষুব্ধ এলাকাবাসীপক্ষে হাফিজ আহমদ তালুকদার নামে এক ব্যক্তি বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত রাস্তাটির ওপর অবৈধভাবে নির্মিত তালুকদার বাড়ির গেটটিকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করেন এবং এটি অবিলম্বে অপসারণের নির্দেশ প্রদান করেন।
আদালতের এই রায় কার্যকর করতে আজ চুনারুঘাট উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিক আনোয়ারের নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন দামোদরপুর গ্রামে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য অংশ নেন এবং প্রশাসনের শ্রমিকদের সহায়তায় জনসমক্ষে অবৈধ গেটটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়।
অভিযান শেষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তৌফিক আনোয়ার সাংবাদিকদের জানান:আইন সবার উপরে। জনপথ বা জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা দখল করে কোনো ধরনের অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই।
বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আজ দামোদরপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে রাস্তা দখলমুক্ত করা হয়েছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনের এই সময়োপযোগী ও কঠোর পদক্ষেপে দামোদরপুর গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, গেটটি নির্মাণ করার পর থেকেই তাদের দৈনন্দিন চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল এবং জরুরি কোনো যানবাহন বা অ্যাম্বুলেন্স গ্রামে প্রবেশ করতে পারত না। আদালতের রায়ে এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপে রাস্তাটি উন্মুক্ত হওয়ায় স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।