১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চুনারুঘাটবাসীর প্রতি সাংবাদিক সালেহ উদ্দিন এর আবেদন

শ্রদ্ধেয় চুনারুঘাটবাসী, আমরা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, আমাদের তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ ইয়াবা , বাবা, নানা ধরনের ক্ষতিকর ট্যাবলেট, ফেনসিডিল ইত্যাদি মাদকাসক্তি এবং বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে অনেক শিক্ষার্থী গভীর রাত পর্যন্ত বাজার-হাট, রাস্তা ও গ্রামের বিভিন্ন আনাচে-কানাচে অকারণে ঘোরাফেরা করছে। এর ফলে এলাকার সামাজিক পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং সর্বোপরি আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আমরা নিশ্চয়ই আমাদের সন্তানদের এমন একটি ভবিষ্যৎ দিতে চাই না, যেখানে মাদক, অপরাধ ও অন্ধকার তাদের স্বপ্নগুলোকে গ্রাস করবে।
এ অবস্থায় পৌরসভার বড়াইল গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ ও মুরুব্বিগণ এক সভায় মিলিত হয়ে মাদক, কিশোর অপরাধ এবং অন্যান্য সামাজিক অনাচার প্রতিরোধে একটি কমিটি গঠনসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেনঃ
১। বড়াইল গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকাকে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মাদকদ্রব্যের কেনাবেচা, পরিবহন, মজুত ও সেবনের বিরুদ্ধে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।
রাতের বেলা গ্রামের নিরাপত্তা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী প্রতিরোধ টহল পরিচালনা করা হচ্ছে। রাত ৯টার পর চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজন, বৈধ শিক্ষা/কোচিং বা অন্য কোনো জরুরি ও যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া শিক্ষার্থী এবং ২০ বছরের নিচের কর্মহীন তরুণদের অকারণে বাইরে ঘোরাফেরা করতে নিষেধ করা হয়েছে।
যুক্তিসঙ্গত জরুরি প্রয়োজনে কোনো শিক্ষার্থী বা তরুণকে রাত ৯টার পর বাড়ির বাইরে থাকতে হলে অভিভাবকের সম্মতি লাগবে। প্রয়োজন হলে বিষয়টি অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচাই করা হবে।
অন্য গ্রামের কোনো ব্যক্তি রাত ৯টার পর যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া বড়াইল গ্রামে প্রবেশ না করতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
প্রত্যেক অভিভাবক নিজ নিজ সন্তান কোথায় যায়, কার সঙ্গে চলাফেরা করে এবং রাতে কখন বাড়ি ফেরে—সে বিষয়ে সচেতন থাকবেন। কোনো সন্তান নিয়মিতভাবে রাত করে বাড়ির বাইরে থাকলে অভিভাবক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন এবং সন্তান অবাধ্য হলে প্রতিরোধ কমিটিকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
যেসব তরুণ অতিরিক্ত n মাদকাসক্ত হয়েছেন, তাদের সংশোধনের জন্য একটি সংশোধন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। তাদের কিছুদিন এই সংশোধন কেন্দ্রে রেখে মানসিক পরিচর্যা করা হবে।
বড়াইল গ্রামকে সিসিটিভির আওতায় আনা হবে।
ইতিমধ্যে গ্রামবাসীর উদ্যোগে একটি সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক গ্রাম প্রদক্ষিণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
সম্মানিত এলাকাবাসী,
কিশোর অপরাধ, বখাটেপনা ও সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে আমরা আর নীরব থাকতে পারি না।
আমাদের সন্তানরা আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের একটি সুন্দর, নিরাপদ ও আনন্দময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু পরিবারের নয়—এ দায়িত্ব আমাদের সবার। একটি সন্তান বিপথে যাওয়া মানে শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে একটি সমাজের ভবিষ্যৎও অন্ধকার হয়ে যেতে পারে।
তাই নিজের সন্তানদের একটি সুন্দর এবং আনন্দময় ভবিষ্যতের স্বার্থে এই উদ্যোগ নিজের ঘর ও গ্রাম থেকে শুরু করে দেশজুড়েই ছড়িয়ে দিতে হবে।
যে যার মতো করে নিজ নিজ এলাকায় এই উদ্যোগে অংশ নিন এবং নেতৃত্ব দিন। আজ আমরা যদি আমাদের সন্তানদের পাশে দাঁড়াই, তাদের ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করি, তাদের প্রতি দায়িত্বশীল হই—তাহলে আগামী প্রজন্মের জন্য আমরা একটি নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ রেখে যেতে পারব।
আসুন, মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।�আসুন, আমাদের সন্তানদের রক্ষা করি।�আসুন, আমাদের গ্রামকে নিরাপদ করি।�আসুন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলি।
মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল চুনারুঘাট গড়ে তুলতে আসুন—আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।

লেখক-

সিনিয়র সাংবাদিক

নির্বাহী সম্পাাক- দৈনিক ইত্তেফাক ও

পরিচালক- এনটিসি