জামাল হোসেন লিটন,চুনারুঘাট( হবিগঞ্জ)।। কুলাউড়া উপজেলা পর্যায়ে কলেজ স্তরের শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম। ২১ সেপ্টেম্বর এ ফলাফল প্রকাশিত হয়।
জাতি গঠনে শিক্ষকের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের সম্মাননা জানানোর মাধ্যমে সকল শিক্ষককে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে সারা বিশ্বের সাথে সঙ্গতি রেখে প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন করা হয়। এবারও দেশের সকল উপজেলা, জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন করা হবে। দিবসটি উদযাপনের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্দেশে উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে।
কুলাউড়ায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে উপজেলা পর্যায়ে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ শিক্ষকরা জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন বলে জানান কুলাউড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো: শফিকুল ইসলাম।
মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম ২০০১ সালে লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজে ইতিহাস বিষয়ের প্রভাষক পদে যোগদান করেন। পরে পদন্নোতি পেয়ে প্রভাষক থেকে সহকারী অধ্যাপক হন। মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম এর বাড়ি হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার পৌরশহরের চন্দনা এলাকায়। তিনি ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ শিক্ষা সমাপ্ত করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। তিনি ছাত্র জীবন থেকে শুরু করে বর্তমান সময়েও শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ড সক্রিয় রয়েছেন।
তিনি ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে পিতার হাত ধরে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার দক্ষিণা চরণ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সুবর্ণ জয়ন্তীতে ফেরিওয়ালা নাটকে প্রথম অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে চুনারুঘাট খোয়াই কচিকাঁচার মেলার প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৫ খ্রিস্টাব্দে থেকে চুনারুঘাট চক্ষু শিবিরে অংশগ্রহণ।
১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে সবুসেনা ক্রীড়াচক্র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ১৯৮৫ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বন্যা দূর্গতদের জন্য ফান্ড গঠন ও ত্রাণ বিতরণে অংশগ্রহণ। ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ। ১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দে রেডক্রিসেন্টে অংগ্রহন। ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে ত্রয়োদশ জাতীয় স্কাউট জাম্বুরিতে অংশগ্রহণ।
১৯৯২ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত রক্তদানে অংশগ্রহণ।
১৯৯৩ থেকে ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও ঢাকার বিভিন্ন মঞ্চে নাটকে অংশগ্রহণ। ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে চুনারুঘাট সাহিত্য – সংস্কৃতি পরিষদের আহবায়ক নির্বাচিত হন। ২০০৪ ও ২০২৪ এ কুলাউড়ার মনু নদীতে বেরি বাঁধ নির্মাণে অংশগ্রহণ করেন। ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে পদক্ষেপ গণপাঠাগার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। বর্তমানে এ পাঠাগার ‘ ক’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত। ২০১০ খ্রীস্টাব্দে মুক্তিযুদ্ধজাদুঘর এর উদ্যোগে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নে ইতিহাস বিষয়ে সুপারিশ প্রবন্ধ রচনা। ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে প্রতিবন্ধী সেবা সংস্থা ( প্রসেস), রবিরবাজার, কুলাউড়া এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রতিবন্ধীদের নিয়মিত সেবা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ। ২০২১ খ্রিস্টাব্দে কবিতাকন্ঠ, চুনারুঘাটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ২০২৪ এ ফান্ড সংগ্রহ করে একটি দরিদ্র পরিবারকে অটো রিকশা দান করেন। বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির বিভিন্ন সম্মেলন, সেমিনারগুলোতে অংশগ্রহণ। এছাড়াও বিভিন্ন জার্নাল, পত্রিকা, দৈনিক পত্রিকা ও সাময়িকীতে প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে।
কলেজ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক-২০২৬’ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম সংশ্লিষ্টp কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে আরও নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজ এর অধ্যক্ষ( ভারপ্রাপ্ত) নজমুল হোসেন বলেন, মোহাম্মদ মাজহরুল ইসলাম কলেজে যোগদানের পর থেকে পাঠান্নয়নে বিভিন্ন সৃজনশীল পদ্ধতি গ্রহণে পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তিনি কলেজের সহশিক্ষা কার্যক্রমগুলোর বিষয়ে সকল সময়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। গুণী শিক্ষক এর মর্যাদা তাঁর প্রাপ্য। কলেজের গণ্ডীর বাহিরে ও উপজেলা, জেলা, বিভাগ পর্যায়ে তাঁর কৃতিত্বের স্বীকৃতি রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ায় কলেজ পরিবার গর্বিত।
কুলাউড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, কুলাউড়া উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষকরা হচ্ছেন- কলেজ স্তরের শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম, মাধ্যমিক স্তরে নবীন চন্দ্র সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক সেলিম আহমদ, প্রাথমিক স্তরে মো: মুর্শেদ আহমদ (প্রধান শিক্ষক আমানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়), শিউলি আচার্য্য (সহকারী শিক্ষক বশিরুল হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) ও সুহানা আক্তার চৌধুরী (সহকারী শিক্ষক ছকাপন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়)। তবে মাদ্রাসা স্তরে উপযুক্ত কোনো শিক্ষক পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষকরা জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করবেন।


