জাতীয়

আমাদের সমস্যা রবিন্দ্রনাথে না, বরং আমাদের সমস্যা রবিন্দ্রপূজায়: ফজলে রাব্বি

আমাদের সমস্যা রবিন্দ্রনাথে না, বরং আমাদের সমস্যা রবিন্দ্রপূজায়: ফজলে রাব্বি

বিশেষ কলাম : বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ফজলে রাব্বি রবিন্দ্র সমালোচনা নিয়ে বলেন;

আমাদের সমস্যা রবিন্দ্রনাথে না, বরং আমাদের সমস্যা রবিন্দ্রপূজায়। সাহিত্যিক হিসেবে কাওকে ধর্ম দিয়ে বিবেচনা করা হয় না, করা হয় সাহিত্যমান দিয়ে। এবং নিঃসন্দেহে মুসলিম বিদ্বেষ সত্ত্বেও রবিন্দ্রনাথ একজন উঁচু মাপের সাহিত্যিক ছিলেন।

যখন রবিন্দ্রনাথকে সাহিত্যিকের যায়গা থেকে সরিয়ে রাষ্ট্রীয় দেবতায় পরিনত করা হয়, যার সমালোচনা ধর্ম অবমাননার মতো অপরাধ, তখন সেটা আর সাহিত্যিকতা থাকেনা, ব্রাম্মাচারি পূজায় পরিনত হয়।

২০২২ সালে হিরো আলম রবিন্দ্রনাথের গান গেয়েছিলো বলে তাকে পুলিশ দিয়ে আটক করে মুছলেকা দিতে হয়েছিল যে সে আর তার কালো চেহারা ও তোতলানো গলায় রবিন্দ্র সঙ্গীত গাইতে পারবে না।

যাষ্ট কল্পনা করেন! গান মানুষ মনের আবেগ থেকে গায়। যার সুর ভালো সেও গায়, যার ভাঙা গলা সেও গায়। কিন্তু জমিদার রঠার সঙ্গীত ভাঙা গলায় গাওয়া নাকি অপরাধ!

সাহিত্য-সমালোচনা, সাহিত্যেরই একটা অংশ। এতে সাহিত্য চর্চা ও গতিপথ উন্নত হয়৷

এদেশে নজরুলের সাহিত্যের সমালোচনা আছে, আল মাহমুদের উপর ট্যাগিং আছে, উনাকে সারাজীবন শাহাবাগীরা জামাতের এজেন্ট বলতো। অথচ উনি একসময় নাস্তিক ছিলো। ফররুখ আহমেদের সাহিত্য সমালোচনার নামে সোকল্ড সংস্কৃতি পাড়ায় রীতিমতো জুলুম করে। কিন্তু এতে কোনো সমালোচকের বিরুদ্ধেই রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা হয়না।

কিন্তু রবিন্দ্রনাথের সাহিত্যের সমালোচনা করা যায় না। করলে এদেশে তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে ধরা হয়। এটা খোদ ভারতে ও হয়না। এর কারণ কী? এর কারণ বাংলায় কলকাতার আধিপত্য। আমাদের সমস্যা এখানেই।

কোনো বাংলাদেশী কোনো দিন সুকান্ত ভট্টাচার্য, জীবনানন্দ দাসদের মতো ভিন্ন ধর্মী লেখক কবিকে কেবল ভিন্ন ধর্মের কারণে সমালোচনা করেনি।
হ্যা, সাহিত্য-সমালোচনা এটা সাহিত্যের অংশ। এটা ভিন্ন জিনিস। সলিমুল্লাহ খান তার শিক্ষকদের সাহিত্যের সমালোচনা করতেও দ্বীধা করেন না।

কিন্তু যখন বাংলাদেশের মুসলিমদের উপর কোনো সাহিত্যিককে পূজনীয় আসনে বসানোর চেষ্টা করা হবে, তারা বিদ্রোহ করবেই। কিন্তু কোলকাতার চসমা লাগানো আপনি কেবল প্রতিক্রিয়াটাই দেখেন। এর আগেরটুকু দেখেন না।