নিউজ ডেস্ক : চুনারুঘাটে জোরপূর্বক লেবু বাগান দখল এবং জমির মালিককে দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে কালা মিয়ার নেতৃত্বাধীন একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে। উপজেলার ৮নং সাটিয়াজুরী ইউনিয়নের বৈরাগী পুঞ্জিতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে লিজকৃত জমির মালিক মোঃ শফিক আলী বাদী হয়ে মোঃ কালা মিয়াসহ ৪ জনকে বিবাদী করে চুনারুঘাট থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমির মালিক গত ২১ অক্টোবর সকাল ১০ ঘটিকায় চুনারুঘাট উপজেলাধীন সাটিয়াজুরী ইউনিয়নের বৈরাগী পুঞ্জিতে অবস্থিত প্রায় তিন একর লিজকৃত জমিতে রোপনকৃত লেবু উত্তোলনের উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় শ্রমিক নিয়ে উপস্থিত হলে কালা মিয়ার নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে লেবু বাগানে প্রবেশ করে এবং সফিক আলীকে লেবু উত্তোলন করতে বাধা দেয়। সফিক আলী এর প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে দেশীয় রামদা দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয় এবং জমি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জানান, নিজের লিজকৃত জমিতে উৎপাদিত ফসল রক্ষা করতে গিয়েও তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এতে করে একদিকে যেমন তার উৎপাদিত কয়েক লক্ষ টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে চার হাজার গাছের লেবু বাগানের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় আরেক ভুক্তভোগী মোঃ আবিদুর রহমান বলেন-আমরা কালা বাহিনীর তাণ্ডবে রীতিমতো দিশেহারা হয়ে পড়েছি। বিগত তিন-চার মাস ধরে তাদের ভয়ে নিজের পরিশ্রমের ফসল ঘরে তুলতে পারছি না। আমার বাগানের সুপারি এবং মরিচসহ বিভিন্ন ফসল কালা মিয়ার লোকেরা জেরপূর্বক উত্তেলন করে নিয়ে গেছে। তাদের এমন অন্যায় কাজে বাঁধা দিতে গেলে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হচ্ছে।
সফিক মিয়া নামে আরেক কৃষক জানান, কালা মিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা মোকদ্দমা থাকার পরেও দিন দিন সে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে।স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী এবং তার নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী থাকায় তার বিরুদ্ধে কেউ ভয়ে মুখ খুলছে না। অসহায় কৃষকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সে একের পর এক জমি ও বাগান দখল করে চলেছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।
এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, জমির মালিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বাগানের ফসল রক্ষা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। একই সঙ্গে জমির প্রকৃত মালিক যেন নির্বিঘ্নে নিজের জমিতে প্রবেশ করতে ও ফসল সংগ্রহ করতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপও কামনা করেন তারা।


