নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার ফলাফলে চুনারুঘাট উপজেলায় মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। সাধারণ কলেজগুলোর ফলাফলে হতাশাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। উপজেলার কলেজগুলোর পাসের হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ কম। ছয়টি কলেজের মধ্যে চারটির পাসের হার ৩৩ শতাংশের নিচে। তবে আলিম পরীক্ষায় তুলনামূলক ভালো ফলাফল করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চুনারুঘাটের ছয়টি কলেজ থেকে এবার মোট ১ হাজার ২৭৮ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫৭১ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৭০৭ জন। পাসের হার ৪৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র চারজন।
অন্যদিকে, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জাতীয় পর্যায়ে পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ এবং সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। সে হিসাবে জাতীয় গড়ের চেয়ে চুনারুঘাটের কলেজগুলোর পাসের হার ৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ পয়েন্ট এবং সিলেট বোর্ডের চেয়ে ৬ দশমিক ২২ শতাংশ পয়েন্ট কম।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চুনারুঘাট সরকারি কলেজ থেকে সর্বোচ্চ ৯৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৫৫ জন। পাসের হার ৪৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন চারজন। পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হলেও এখানেও অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন।
গাজীপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৪৫ জনের মধ্যে পাস করেছেন ৪৭ জন। পাসের হার ৩২ দশমিক ৪১ শতাংশ।
পঞ্চাশ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৭ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন পাঁচজন। পাসের হার ২৯ দশমিক ৪১ শতাংশ।
মাসুদ চৌধুরী হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৮৩ জনের মধ্যে পাস করেছেন ২৪ জন। পাসের হার ২৮ দশমিক ৯২ শতাংশ।
আমুরোড উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে ৮১ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২৩ জন। পাসের হার ২৮ দশমিক ৪০ শতাংশ।
অন্যদিকে, জাহানারা চৌধুরী মহিলা কলেজ থেকে ১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৮৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ। উপজেলার কলেজগুলোর মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পাসের হার।
পরিসংখ্যান বলছে, ছয়টি কলেজের মধ্যে চারটিতেই পাসের হার ৩৩ শতাংশের নিচে। সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়া চুনারুঘাট সরকারি কলেজেও পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে। অন্যদিকে, জাহানারা চৌধুরী মহিলা কলেজের ফলাফল তুলনামূলকভাবে বেশ ভালো।
আলিম পরীক্ষায় এগিয়ে মাদ্রাসা
এইচএসসির তুলনায় আলিম পরীক্ষার ফলাফলে ইতিবাচক চিত্র পাওয়া গেছে। উপজেলার চারটি মাদ্রাসা থেকে মোট ১১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৮১ জন। পাসের হার ৬৮ দশমিক ০৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন একজন।
মাদ্রাসাগুলোর মধ্যে দারুল ইসলাম রাহমানিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৩৩ জনের মধ্যে ৩০ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। পাসের হার ৯০ দশমিক ৯১ শতাংশ। হাজী আলীম উল্লা সিংহশাহী মাদ্রাসা থেকে ৫৬ জনের মধ্যে ৩৬ জন পাস করেছেন। পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ।
চাটপাড়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ২২ জনের মধ্যে ১১ জন এবং শানখলা আলিম মাদ্রাসা থেকে আটজনের মধ্যে চারজন উত্তীর্ণ হয়েছেন। উভয় প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৫০ শতাংশ।
প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাধারণ কলেজগুলোর পাসের হার ৪৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ হলেও আলিম পরীক্ষায় পাসের হার ৬৮ দশমিক ০৬ শতাংশ। অর্থাৎ আলিম পরীক্ষার পাসের হার কলেজগুলোর তুলনায় ২৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
সার্বিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চুনারুঘাটের সাধারণ কলেজগুলোতে ফলাফল উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে চারটি কলেজে পাসের হার ৩৩ শতাংশের নিচে থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রশাসনের জন্য উদ্বেগের কারণ।
শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ঘাটতি, বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক শিক্ষা কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।


