মজুরি দাবিতে ৫ চা বাগানে কর্মবিরতি, মালিকপক্ষের দাবি অর্থসংকট

জামাল হোসেন লিটন: মজুরি না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হবিগঞ্জের চারটি ও মৌলভীবাজারের একটি চা বাগানের শ্রমিকেরা। মজুরি পরিশোধের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন তাঁরা। দাবি পূরণ না হলে প্রয়োজনে সচিবালয় ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। অন্যদিকে, মালিকপক্ষ বলছে, দীর্ঘদিনের লোকসান ও অর্থসংকটের৮ কারণে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার লালচাঁদ চা বাগানের মন্দিরের সামনে এ বিক্ষোভ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। লাল সাঁওতালের সভাপতিত্বে এতে লালচাঁদ, দেউন্দি, গিলানী ও নোয়াপাড়া চা বাগানের শ্রমিকেরা অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন দেউন্দি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি আপন সাঁওতাল, নোয়াপাড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কমেড নায়েক, ইউপি সদস্য দুলাল ঘোষ, কার্তিক বাকতি, লক্ষ্মীকান্ত রায় এবং দেউন্দি চা বাগানের শ্রমিক নেতা উজ্জ্বল কুমার দাস।
শ্রমিক নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেউন্দি কোম্পানির নোয়াপাড়া, লালচাঁদ, দেউন্দি ও গিলানী চা বাগানের পাশাপাশি মৌলভীবাজারের মিরতিঙ্গা চা বাগানে শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা হচ্চে।।এত দিন কষ্ট মেনে নিয়ে কাজ চালিয়ে গেলেও রোববার থেকে মজুরি দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।
এতে পাঁচটি চা বাগানের শত শত শ্রমিক পরিবারের জীবনযাত্রা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বাধ্য হয়ে তাঁরা কর্মবিরতি পালন করছেন।
শ্রমিকেরা আরও জানান, আগামী রোববার হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করবেন তাঁরা। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এতেও সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে। প্রয়োজনে সচিবালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি পালন করবেন তাঁরা।
তবে চা বাগান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে শ্রমিকদের মজুরি বন্ধ রাখা হয়নি। গত কয়েক বছর ধরে দেউন্দি কোম্পানির পাঁচটি চা বাগানে ধারাবাহিক লোকসান হচ্ছে। তিন বছর আগে আগুনে লালচাঁদ চা বাগানের কারখানা পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, নোয়াপাড়া চা বাগানে দুই বছর গ্যাস সংযোগ ছিল না। এতে চা উৎপাদন বন্ধ ছিল বেড়েছে। পাশাপাশি সরকারি ব্যাংকঋণও পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি তাঁদের। এমন পরিস্থিতিতেও কোম্পানি এত দিন বাগানগুলো চালু রেখেছে এবং এখনো চালু রাখতে আন্তরিক।
নোয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক সোহাগ মাহমুদ বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্তৃপক্ষ সব ধরনের চেষ্টা করছে।’
শ্রীমঙ্গল শ্রম অধিদপ্তরের উপপরিচালক মহব্বত হোসাইন বলেন, ‘বাগানের অচলাবস্থার বিষয়টি আমরা জেনেছি। মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।’