৯ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চুনারুঘাট সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবি’র টহল জোরদার

নুরুল আমিন: সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ’র পুশইন নিয়ে চুনারুঘাট সীমান্তে টহল জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বিজিবি। হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনস্থ সকল সীমান্ত ফাড়ির জোয়ানদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। কোন কোন এলাকায় মাইকিং করে সীমান্তবাসিকে সচেতন করা হয়েছে। তবে গতকাল রবিবার পর্যন্ত কোন পুশইন বা অনুপ্রবেশ’র ঘটনা ঘটেনি। গত ২৫ মে পাহাড়ঘেরা কালেঙ্গা সীমান্তের ৫৫ এর ৯ সাব সীমান্ত পিলার বরাবর নারী-শিশুসহ ১৯ জনকে পুশইন করেছে বিএসএফ। তারা ত্রিপুরা রাজ্যে একটি ভাটার শ্রমিক ছিলেন। তারা সখানে বিগত ১৫ বছর যাবত কাজ করে আসছিলেন। চুনারুঘাট উপজেলার সব কয়টি সীমান্ত ঘন পাহাড় ও চা বাগানঘেরা। চুনারুঘাটে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা গহীন জঙ্গলে আবদ্ধ। বাল্লা বিওপি’র সামান্য অংশ জঙ্গলমুক্ত। ২০০৫ সালে পুরো ত্রিপুরা সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেয় ভারত সরকার। কালেঙ্গা সীমান্তে ডেবরাবাড়ি এলাকাটি গহীন পাহাড় বেষ্টিত থাকায় এখানে তাঁরের বেড়ার আওতায় আসেনি পুরো সীমান্ত। মুলত এলাকাটিতে নজরদারি জোরদার করলে অনুপ্রবেশ ঠেকানো বহুলাংশে সম্ভব বলে এলাকাবাসীর মনে করেন। চুনারুঘাট সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নানা সতর্কতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিজিবি। শনিবার গভীর রাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং করে ৫৫ বিজিবি। এ ছাড়া উঠান বৈঠকের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণকে পুশ ইনের ঝুঁকি, সন্দেহজনক তৎপরতা শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত বিজিবিকে জানানোর বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। এই কার্যক্রমে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি গ্রাম পুলিশ ও আনসার-ভিডিপির সদস্যরাও অংশ নিচ্ছেন।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা, মাইকিং ও প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় ২৪ ঘণ্টা যেকোনো সন্দেহজনক তৎপরতা চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিজিবির ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রতিটি বিওপিতে টহল জোরদার ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে সীমান্তের প্রতিটি অংশ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। রাত্রিকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থার্মাল ও ইনফ্রারেড ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।